আমার ফাঁসির দাবি, তাদের ভয়! মৌলভীবাজারে মৌলবাদী সমাবেশ আমাকে থামাতে পারেনি, পারবেও না

মৌলভীবাজারে কিছু জঙ্গি মানসিকতার মৌলবাদী মানববন্ধন করেছে—আমার ফাঁসির দাবিতে। তারা চায় আমি লেখা বন্ধ করি। তারা চায় আমি তাদের অপকর্ম, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, ভয় দেখিয়ে রাজনীতি—এসব কথা না বলি।
আমি স্পষ্ট করে বলছি: এই সমাবেশ আমার বিরুদ্ধে নয়। এটা কলমের বিরুদ্ধে। এটা মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে। এটা সেই পুরোনো কৌশল—ভয় দেখাও, চুপ করাও, দখল নাও।
আমি কেন তাদের ভয় পাই না?
কারণ তারা যুক্তি নিয়ে আসে না। তারা আসে হুমকি নিয়ে।
কারণ যারা সত্যের মোকাবিলা করতে পারে না, তারাই ফাঁসির দাবি তোলে।
মৌলভীবাজার আমার এলাকা। এখানকার মানুষ জানে—আমি কাউকে আঘাত করার জন্য লিখি না। আমি লিখি অন্যায়, ভণ্ডামি আর ধর্মের নামে ব্যবসার বিরুদ্ধে। আর ঠিক এখানেই তাদের সমস্যা। ধর্মকে বিশ্বাসের জায়গা থেকে নামিয়ে এনে যারা বাজার বানিয়েছে, তাদের কাছে প্রশ্নই সবচেয়ে বড় শত্রু।
এই মানববন্ধন আসলে কী বলছে?
এটা বলছে—“লিখো না।”
এটা বলছে—“প্রশ্ন করো না।”
এটা বলছে—“আমাদের হিসাব নিকাশ খুলো না।”
আর যারা ফাঁসির দাবি করে, তারা কী প্রমাণ করে?
তারা প্রমাণ করে—তাদের হাতে যুক্তি নেই, নৈতিকতা নেই, সাহস নেই। আছে শুধু ভয় দেখানোর রাজনীতি।
আমি জানি, তারা বলবে—“ধর্মে আঘাত।”
কিন্তু সত্যটা হলো—আমি ধর্মে নয়, ধর্ম নিয়ে ব্যবসায় আঘাত করেছি।
আমি বিশ্বাসে নয়, বিশ্বাসের নামে দখলে আঘাত করেছি।
আমি মানুষের ঈমানে নয়, মানুষের ভয়কে পুঁজি করা রাজনীতিতে আঘাত করেছি।
এই দেশে ফাঁসির দাবি নতুন না। কলম ধরা মানুষদের বিরুদ্ধে এমন দাবি বহুবার উঠেছে। কিন্তু ইতিহাস কী বলে? কলম থামে না। থামে না বলেই এই দেশ আজও কথা বলে।
রাষ্ট্রের কাছেও আমার প্রশ্ন আছে।
যেখানে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি ওঠে, সেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব?
হুমকি কি “সংবেদনশীল বিষয়”? নাকি অপরাধ?
আমি পরিষ্কার করে বলছি—আমাকে থামাতে পারবে না এই সমাবেশ। বরং তারা আমাকে আরও দায়বদ্ধ করেছে। কারণ ভয় দেখিয়ে লেখা বন্ধ করানো গেলে, আগামীকাল আর কেউ লিখবে না। আজ আমি, কাল যে কেউ।
মৌলবাদীরা ভাবে, তারা সংখ্যায় শক্তিশালী।
কিন্তু তারা ভুলে যায়—সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো একজন মানুষও শক্তি।
এই লেখা কোনো উসকানি নয়।
এই লেখা একটি অবস্থান।
আমি লিখব।
আমি প্রশ্ন করব।
আমি ধর্ম নিয়ে ব্যবসার কথা বলব।
আমি অপকর্মের নাম নেব।
কারণ মৌলভীবাজার কোনো ভয়ভিত্তিক এলাকা নয়।
বাংলাদেশ কোনো ফাঁসির দাবিতে চলা দেশ নয়।
আর যারা ১৪ আগস্ট মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে আমার ফাঁসি চেয়েছে—তাদের জন্য আমার একটাই বার্তা:
তোমরা কলমকে ভয় পাও বলেই এত চিৎকার।
কলম থামলে তোমাদের রাজত্ব টিকত।
কিন্তু কলম থামছে না।

  • Related Posts

    • May 20, 2026
    ধর্মীয় উগ্রবাদ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি

    সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মের অপব্যবহার ও ধর্মান্ধতার মাত্রা, গভীরতা ও বিস্তার দেখে মনে হচ্ছে যে ধর্মের আবির্ভাব হয়েছিলো পৃথিবীর মানুষকে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি গোঁড়ামি থেকে মুক্তি দিতে সেই হয়ে উঠেছে গোঁড়ামিপূর্ণ। ধর্মীয়…

    • May 11, 2026
    মৌলবাদ’কে একটি গ্রামীণ, অনাধুনিক, পশ্চাৎপদ বিষয় হিসেবে দেখলে এর শেকড় সন্ধান পাওযা যাবে না, এর ব্যাপ্তি বোঝানো যাবে না

    পুঁজিবাদ সম্প্রসারণে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা খুবই সহায়ক হয়েছিলো। আর উপনিবেশগুলোতে রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্প্রসারণে মিশনারীদের বিভিন্ন মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো, ভূমিকা ছিলো স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও ক্ষমতাবানদেরও। আবার ঔপনিবেশিক শাসন বিরোধী ভূমিকাতেও…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    ধর্মীয় উগ্রবাদ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি

    • May 20, 2026

    মৌলবাদ’কে একটি গ্রামীণ, অনাধুনিক, পশ্চাৎপদ বিষয় হিসেবে দেখলে এর শেকড় সন্ধান পাওযা যাবে না, এর ব্যাপ্তি বোঝানো যাবে না

    • May 11, 2026

    রাজনীতিহীনতার সুযোগে উগ্র, ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী শক্তি আবারও সক্রিয় হচ্ছে

    • March 31, 2026

    ধর্মীয় মৌলবাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে- ধর্মের প্রাচীন মূল্যবোধ রাষ্ট্র এবং সমাজে প্রতিষ্ঠা করা।

    • March 1, 2026

    আমি মৌলবাদীদের ঘৃণা করি কারণ তারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, জীবন থেকে নাচ–গান মুছে ফেলতে চায়

    • January 16, 2026

    ফ্যাসিবাদ একটি জাতীয়তাবাদী, একনায়কতান্ত্রিক এবং সামরিকবাদী আদর্শ, যা ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের অন্ধকার অধ্যায় হিসেবেই বিবেচনা করা হতো

    • January 5, 2026