অনেক ধর্মান্ধ তাদের মানস ও শিক্ষায় দৈন্যতার প্রকোপে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতা অর্থ গুলিয়ে একাকার করে ফেলেন। নিজেদের সে দৈন্যতাকে প্রশয় দিয়ে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। তাদের সে বানী প্রচার করেনও সরবে। আমরা, যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি ও একে সামাজিক মুক্তির একটি অতি দরকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরি, প্রতিবাদ করি ও চেষ্টা করি তাদের ভুল ভাঙ্গানোর। কিন্তু যে ভুল ইচ্ছাকৃত তাকে ভাঙ্গানোর সাধ্য কার আছে?
যারা চিন্তায় ও মানসে ধর্মীয় সম্প্রসারণবাদী, তারা তাদের ভুল স্বীকার করবে, তা আশা করা অর্থহীন। সব ধর্মের সমান অধিকার তাদের সম্প্রসারণবাদী চিন্তাকে প্রতিহত করবে, এ ভয়ই তাদের বুকে ভেতরে সারাক্ষণ। যারা ধর্মীয় সম্রাজ্যবাদ, তাদের এটা সইবে কেন? এ আলোচনায় তাদের কথা না বলাই ভাল। কিন্তু সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হতাশার সুযোগ নিয়ে তারা কিছু মানুষকে প্রভাবিত করে। সে সব প্রভাবিত মানুষদের জন্যে ধর্মনিরপেক্ষতা সহজ সংজ্ঞা দরকার।
সেকারণে নিজ প্রচেষ্টায় একটি সংজ্ঞা দাড় করানোর প্রচেষ্টায় আমি। একে সংজ্ঞা না বলে নিজে ধর্মনিরপেক্ষতাকে কিভাবে দেখি, তাও বলা যেতে পারে। এই সংজ্ঞা অবশ্যই সম্পুর্ণ নয়। আপনারা যারা আমার মতোই ধর্মনিরপেক্ষতা তথা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, “আসুন সবাই মিলে এই সংজ্ঞাকে পরিপুর্ণ করার চেষ্টা করি।” আপনারা আপনাদের নিজস্ব সংজ্ঞাও দাড় করাতে পারেন। এতে ধর্মান্ধদের চরিত্র বদলানো না গেলেও তাদেরকে প্রতিহত করা শক্তি আমাদের বাড়বে।
১) আমি নিজে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে যা বুঝি:
এক ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বিচার নির্বিশেষে স্বেচ্ছায়, চাপমুক্তভাবে ও অবাধে নিজ ধর্ম পালনের ও নিজবিশ্বাসে না পালনেরও সুযোগ।